#UN এর ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের রিপোর্ট-Rayhan Sultana Toma

#UN এর ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের রিপোর্টে চোখ বুলালাম। অনেক বড় রিপোর্ট; জরুরি তথ্য আছে। যেহেতু আমার কাজ এখন আর এসব রিপোর্ট এনালাইসিস করা না সেহেতু এখনো একশ’রও বেশি পেইজের এই রিপোর্ট পড়া হয় নাই লাইন বাই লাইন।
তবে প্রথম প্রশ্ন মাথায় আসল নি হ তের সংখ্যা দেখে। বলা হচ্ছে রিপোর্টেঃ
“Based on reported deaths compiled by governmental and non-governmental sources, in combination with other available evidence, OHCHR assesses that as many as 1,400 people could have been killed during the protests, the vast majority of whom were killed by military rifles and shotguns loaded with lethal metal pellets commonly used by Bangladesh’s security forces.”
এই সংখ্যাটায় একটা কিন্তু আছে যে এখানে ১৪০০ এর মাঝে সবাইকেই ইনক্লুড করা হয়েছে যারা ৪ ও ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে ‘রিভেঞ্জ ভা য়োলেন্সের’ (তথ্যানুসন্ধান দলের দেওয়া টার্ম, আমার না) শিকার হয়েছে। একটা আনুমানিক সংখ্যাও কেনো বলা যাচ্ছে না যে এতজন ছাত্র-সাধারণ মানুষ নি হ ত/আ হ ত হয়েছে আর পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, পুলিশ, র্যাব সহ এতজন হ’ত্যার শিকার হয়েছে (আমি চোখ বুলিয়ে এই সংখ্যাটা পাইনি; কেউ পাইলে জানাবেন/কারেক্ট করবেন আমাকে)?!
আবার রিপোর্টের এই অংশে “Violations and abuses in the aftermath of the protests” ইন্টারেস্টিং একটা জিনিস দেখলাম। এখানে লিস্ট করা হয়েছে ৪ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দফাতে ও বিভিন্ন জায়গায় কিভাবে পুলিশ, র্যাব সহ আইনশৃংখ লা রক্ষা কারী বাহিনীকে পি টি য়ে, পু ড়ি য়ে শুধু মে রেই ফেলা হয় নাই, তাদের মৃ ত দেহ নিয়েও ঝু লিয়ে রাখা হয়েছে পাবলিকলি। মৃ ত দে হ নিয়ে হিউমিলিয়েশন হয়েছে। যদিও এসব গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনকে নতুন স্বাধীনতা আনয়নকারীরা ‘জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ’ বলে দায়মুক্তি দিয়ে দিয়েছে। সিলেকটিভলি মানবাধিকার দেখার যে লেন্সটা এদের! উফফ! সেই মব ও তাদের জি ঘাং সা এখন কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে দেখছি তো আমরা?
তো, এই অংশ এক জায়গায় (ছবি সংযুক্ত) যেখানে আওয়ামী লীগ ১৪৪ জন নেতা কর্মীর পূর্ণাঙ্গ তথ্য (রিপোর্টের ভাষ্য মতে ‘a detailed list’) দিয়েছে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনকে; তবুও এই অনুসন্ধান দল এই ১৪৪টি ইন্সিডেন্টের তথ্য ‘ইন্ডিপেন্ডেন্টলি ভেরিফাই করতে পারে নাই’ বলছে! খুব ইন্টারেস্টিং না? How difficult it was? অবশ্য এই প্যারার শুরুতেই স্বীকার করেছে তারা ‘রিভেঞ্জ ভা য়ো লেন্সের’ কি এক্সটেন্টে হয়েছে সে ক্ষেত্রে তারা নিজেদের এস্টিমেশন দিতে পারছে না।
কিন্তু কেনো? যদি পূর্ণাঙ্গ লিস্ট তাদেরকে দেওয়া থাকে (নাম, তারিখ, কারণ ইত্যাদি) তবে কেনো এই ঘটনাগুলো ভেরিফাই করা গেল না? তাইলে কিসের নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে এই রিপোর্ট হল? আমরা হান্নান মাসুদের ইন্টারভিউ টিভিতে দেখেছি। এনায়েতপুরে পুলিশ স্টেশনের ঘটনা নিয়ে ছাত্রদলের এক নেতার পাবলিক দম্ভোক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি। এসবের পরেও এই তথ্য লুকানোর পন্থাটা খুবই ইন্টারেস্টিং। আবারও, সিলেক্টিভলি মানধাবিকার লঙ্ঘন দেখার যে বিষয়টা!?
হি ন্দুদের ওপরে আ ঘা ত, হা ম লাকেও, অ গ্নি সং যোগের ঘটনাগুলোকে খুবই ডাউনপ্লে করা হয়েছে যেভাবে এতদিন করা হয়েছে/ হচ্ছিল সরকারি ভাষ্যে (ছবি সংযুক্ত করলাম)। মাইনোরিটি বিষয়ক এডভোকেসি গ্রুপের তথ্য নাকি লোকাল সাংবাদিকদের সাথে মিলে নাই? কাজ করছেন কখনো এই সাংবাদিকদের সাথে? তারা কতখানি পার্টিজান জানেন (কিছু ব্যতিক্রম বাদে)? আর, এই সাংবাদিকদের ঘাড়ে কয়টা মাথা থাকবে যে এধরনের সেনসিটিভ (যেখানে ভূ-রাজনীতি জড়িত) মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো বলবে নির্দ্বিধায়? ১২ই সেপ্টেম্বর প্রথম আলো নিউজ করেছিল যে “সারা দেশে প্রথম আলোর প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা ৫ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়ে হামলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তত ১ হাজার ৬৮টি ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পেয়েছেন। এর বাইরে হামলা হয়েছে ২২টি উপাসনালয়ে।” সেই রিপোর্টের আরেক জায়গায় আছেঃ “প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৪৯টিতে হামলার ঘটনা ঘটার তথ্য পাওয়া যায়। নিহত ২ জন।” এসব আমলে নেওয়া হয় নাই? কেনো?
ইউএনের মিশনেরও এই বিষয়ে তথ্য নিয়ে লুকোছাপা খুবই জঘন্য লাগল।
খুবই ডিপ্লোম্যাটিকলি তথ্য সাজানো হয়েছে যেন দায় শুধুই আওয়ামী লীগ সরকারের ওপরেই পরে এবং উচিতও। কিন্তু এর বাইরেও যেসব ক্ষেত্রে ব্যাপক আকারের মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে সেসবের ব্যাপারে ‘ধরি মাছ না ছুই পানি’ টাইপের কথাবার্তা দেখে খুব অবাক না হলেও বিরক্ত হয়েছি প্রচন্ড।
এই রিপোর্ট পাবলিশের পরে সবাই তো মোটামুটি একই সুরে কথা বলছে; কিন্তু পড়ে যতখানি দেখলাম বুঝলাম যে এই রিপোর্টটাও আসলে বেশ কিছু জায়গায় তথ্যের লুকোছাপা আছে। তাই ভাবলাম লিখি (আর মুফতে কিছু গালি আর ট্যাগ খাই)।
দেখেন যা ভাল মনে করেন।
ইউএনের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন ১৫ আগস্ট পর্যন্ত তথ্য নিয়ে কাজ করছে। হি ন্দুদের ওপরে নির্বিচার হা ম লার ব্যাপারে প্রথম আলো কাজ করেছে ৫ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত তথ্য নিয়ে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ীঃ ঃহামলা শুরু হয় মূলত গত ৫ আগস্ট বিকেল থেকে। প্রথম দুই দিন হামলার ঘটনা বেশি ঘটে। সারা দেশে প্রথম আলোর প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা ৫ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়ে হামলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তত ১ হাজার ৬৮টি ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পেয়েছেন। এর বাইরে হামলা হয়েছে ২২টি উপাসনালয়ে।
সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগে। বিভাগটিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তত ২৯৫টি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা হয়। রংপুর বিভাগে ২১৯টি, ময়মনসিংহে ১৮৩টি, রাজশাহীতে ১৫৫টি, ঢাকায় ৭৮টি, বরিশালে ৬৮টি, চট্টগ্রামে ৪৫টি এবং সিলেটে ২৫টি বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কোথাও কোথাও স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কোথাও কোথাও কম।”
টাইমলাইন রিপোর্টের ১৬ জুলাই – ১৬ আগস্ট
১৪শ+ এর হিসাবে তাহলে ৫ আগস্ট পরবর্তী লীগের কর্মীদের কয়েকশো হত্যা,পুলিশের ৪৪ জন + গাজী লুটতে গিয়ে পুড়ে মরা ২৫০+, যশোরের জাবির হোটেল লুটতে গিয়ে পুড়ে মরা ৩৬ সবাই আছে।
এই বিষয়টাই আমার কাছে ব্যাফলিং লাগছে। যদি শুধু এই রিপোর্টের তথ্যই ধরো এবং এই অংশে “Violations and abuses in the aftermath of the protests” দেখবা বিভিন্ন ঘটনা ও হ ত্যা কান্ড তালিকা করছে কিন্তু একটা টোটাল সংখ্যা দিতে পারে নাই (নাকি ইচ্ছা করেই দেয় নাই)।
All

COMMENTS (1)

Comments are closed.