স্কুলে ছিলাম তখন। বাসায় ‘দৈনিক সংবাদ’ পত্রিকা আসে।গভীর আগ্রহে পত্রিকা পড়তাম।হঠাৎ করে ধারাবাহিকভাবে নিউজ আসতে থাকলো ‘ঢোলকলমি’ গাছে এক ভয়ংকর পোকা দেখা দিয়েছে,সেই পোকার কামড়ে অনবরত মানুষ মরে যাচ্ছে।প্রায় মাসাধিককাল ধরে এ খবর দৈনিক পত্রিকাগুলো,ট্যাবলয়েড পত্রিকা,সান্ধ্য পত্রিকা ছাপাতেই থাকে।
আতঙ্কে মানুষ ঢোলকলমি কেটে ফেলতে থাকে-ঢোলকলমি যারা দেখেছেন তাদের মনে থাকবে এতে সুন্দর ফুল হয়,এ দিয়ে বেড়া দেয়া হতো,নদীর ভাঙন বা ভূমি ক্ষয় ঠেকাতো এ গাছ।একমাস পরে টিভিতে এক রিপোর্টার সেই ঢোলকলমিজাত পোকা হাতে নিয়ে হাতের উপর হাঁটিয়ে পরে পিষে মেরে দেখান এ এক নিরীহ পোকামাত্র।
ততোদিনে সব উজাড় হয়ে গিয়েছে।
আগের দিনে এভাবে গুজব ছড়ানো হতো।মানু্ষকে প্রভাবিত করা হতো।
এখন কিভাবে করা হয়?
এখন সোশ্যাল মিডিয়া দিয়ে মানু্ষকে গুজব খাওয়ানো হয়-#জুলাইজুলুম শুরু হবার আগে প্রথমে মানুষ গুজব কতটা দ্রুত গ্রহণ করে এবং গুজবের ভিত্তিতে প্রতিক্রিয়া কি দেখায় তা মাপার জন্য ‘রাসেল ভাইপার’ কান্ড নিয়ে আসা হয়।বলা হয় এ সা/পের কারণে অমুক জায়গায় তমুক মা/রা গিয়েছে।ভারত নদীতে এ সা/প ছেড়ে দিয়েছে।মানুষ বিনা প্রশ্নে সাপ মারাতে ব্রতী হয়ে যায়।
গুজবের সক্ষমতাকে পরীক্ষার নিমিত্তে এরপর হালকা সত্য মিশিয়ে পরিবেশন করা হয় মতিউরের ১৫ লাখ টাকার ছাগ/ল কান্ড।ইলেকট্রনিক মিডিয়া,সোশ্যাল মিডিয়া সব সয়লাব হয়ে যায় ছাগ/লে ছাগ/লে।
#জুলাইজুলুম এ চলা প্রপাগান্ডা,গুজবের কথা তো নতুন করে স্মরণ করানোর কিছু নেই।
এখন চলছে ষান্ডা ও বোতলের এক মিলিত ককটেল।ফেসবুক এ দুই বিষয় নিয়ে ব্যতিব্যস্ত।মেটা তার এসাইনমেন্ট অনুযায়ী ফেসবুক বোম্বার্ড করে দিয়েছে ষান্ডা ও বোতল মাহফুজ দিয়ে।
বিশবার স্ক্রল করলেও চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে,করিডোর নিয়ে কোন পোস্ট কেউ দেখতে পাবে না।
সাথে পরিবেশন করে চলেছে ‘নারী’ বিষয়ক নাটক মৈত্রী যাত্রা।
মেটার রন্ধ্রে রন্ধ্রে বসা শাবনাজ দিয়া’র বিভিন্ন ভার্সন।
একবার ভাবেন একটা ঘোষণাপত্র পাঠ করছেন নারীদের হয়ে,বাংলাদেশের নারীদের হয়ে সেখানে লাইন লিখেছেন
‘আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই — যেখানে কাঠামোগত বৈষম্য ও সহিংসতা বিদ্যমান, সেখানে ন্যায়ের সংগ্রামকে বাধাগ্রস্ত করা, হুমকি প্রদান করা বা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা আদতে সেই সংগ্রামের 📍জরুরতকেই📍 প্রমাণ করে।’
আমরা ‘প্রয়োজন’ ‘অনিবার্যতা’ ‘দরকার’ কোন শব্দ ব্যবহার করতে পারি না-কারণ আমাদের যারা প্রেস্ক্রিপশন দিয়েছে তারা “জরুরত” লিখবে ও বলবে।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটা শব্দ পুরো ঘোষণাপত্রে,সেখানে ফুলবাড়ি আন্দোলনের কথা পর্যন্ত উল্লেখ আছে-নেই গণজাগরণ মঞ্চের কথা।
একজন অ্যাকটিভিস্ট হিসেবে আমার কাজ প্রশ্ন তুলে ধরা,অসঙ্গতির দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ ও প্রয়োজনমতো প্রতিবাদ করা।অবৈধ সরকারের কাছ হতে আমার যেহেতু কোন প্রত্যাশা নেই তাই জনগণের কাছেই হাত পাতি-
ষান্ডা ও বোতল থেকে মাথা ফেরান
আমাদের বন্দর
আমাদের সীমান্ত
হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে এসব ফালতু বিষয়ের নীচে। রাবিশ জিনিসকে ট্রেন্ড করবেন না প্লিজ।লাগাতার বন্দর ও সীমান্ত নিয়ে কথা বলুন।দেশ না থাকলে এসব সরকার প্রযোজিত মানিক মিয়া এভিনিউতে চড়ুইভাতি খেলা হবে না।
ব্যক্তি আমি ক্রিমিনালরা যেভাবে সিস্টারহুড নষ্ট করলো তা মনে রাখব,আমরা যারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সবকিছুর উপরে স্থান দেই এবং একে ‘আজাদি’ শব্দ দিয়ে প্রতিস্থাপন করি না তারাও মনে রাখবেন ১৬ মে ২০২৫ ইউনূস সমর্থিত দৃক প্রযোজিত বিদেশী অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই অনৈতিক যাত্রার কথা।