মোহরের চোখ

নিজের নামটা নিয়ে মোহরের দিগদারির শেষ নাই। ও ছেলে,না মেয়ে এই নাম দেখে কেউ বুঝে না। ধর্মটাও ঠিকঠাক বুঝা যায় না। মাঝে মাঝে রাগের বশে ভাবে নামটা উম্মে কুলসুম টাইপ কিছু করে ফেলবে কি না!

ছোট থাকতে যখন মায়ের দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই কবুতরের ডিম বলে তার টেস্টিকলস এ হাত দেয়াতো,আর একদিন গালে কামড় দিলো,৬ বছরের মোহর ভেবেছে – আহ,বয়সে বড় হলে মামা নিশ্চয় ই আমার সাথে এমন করতে পারতো না! মোহরের ভাগ্য ভালো, মা কে বলতেই,মা সেই মামার কাছে আর যেতে দেয়নি। মোহরের ছিল গল্প শুনার নেশা,মা শেষ পর্যন্ত এই অবস্থা দেখে মোহরকে সেই ৬ বছর বয়সেই গল্পের বই পড়া শিখিয়েছে,যেন গল্প শুনতে কোন মানুষের পাশে বসা না লাগে।
একটু বড় হতেই যখন পিরিয়ডের ধাক্বায় খেলাধূলা বন্ধ,তখন মোহর ভাবতো ছেলে হলে বেশ হতো! এসব পিরিয়ড ফিরিয়ডের জ্বালা পোহাতে হতো না,জামায় দাগ লাগার ভয়ে পিছন ফিরে দেখতেও হতো না এতবার! সন্ধ্যার পরে বাসার বাইরে থাকলে কেউ এত চিন্তাও করতো না। বন্ধুদের মাঝে বসে একদিন প্লেবয় ম্যাগাজিন দেখে মোহরের ছেলে হবার সাধ উবে যায়। উফ,এসব ও মানুষ দেখে! মোহর কে নিয়ে বন্ধুরা হাসিতে ভেঙে পড়ে। অনেকভাবে বুঝায় এগুলা মজা,এসব নিয়ে এত সিরিয়াস হবার কিছু নেই। ছেলেদের পুরুষ হয়ে উঠবার নিরন্তর লড়াই মোহর কে বিষাদগ্রস্ত করে। আহা অসহায় ছেলেরা! নিজের শক্তি বুঝাতে খালি যুদ্ধ করে। যুদ্ধ এবং আবার যুদ্ধে যাবার প্রস্তুতির মধ্যবর্তী সময় কে তারা শান্তি বলে ঘোষণা করে।
ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে মোহরের ধ্যানগ্রস্ততা এমন বাড়ে,জালালুদ্দিন রুমী,ওমর খৈয়াম, এসব পড়তে পড়তে এক সময় মনে হয় বোরখা পরে ফেলে! নিজের মাঝে যে সৃষ্টিকর্তা বাস করে প্রত্যেক মানুষের তার সন্ধানে কোন সুফী বাউল হয়ে ঘুরে,মানুষ কে শুধু ভালোবাসার কথা শুনায়।
অন্য অনেক কল্পনার মতোই মোহর কোনকিছুই সেভাবে প্রকাশ করতে পারে না,তার তোতলানো বাচনভঙ্গী দিয়ে। সব পোষাতে নিজের মতো করে পাতার পর পাতা ডায়রি লিখে।
এই পড়ন্ত বেলায় মাথার পাকা চুল সরাতে সরাতে বুঝে নারী হয়ে বোরখা পরলেও তার মুক্তি হতো না। পুরুষ হয়ে ধার্মিক হলেও তার মুক্তি হতো না। মগজে মানুষ না হলে এই সংশয়বাদী জীবন এর ভ্রান্তি চলতেই থাকবে। মোহর মনুষ্যত্বের পরীক্ষার জন্য তৈরী হয়,হাতে বহু বছরের কল্পনার বন্দুকটা বাস্তবে সাথে নিয়ে,ওর অন্দরের বাহিরের চোখ এক নতুনের সন্ধানে রেডিয়াম হয়ে জ্বলতে থাকে।

COMMENTS (8)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *