কাল্পনিক

২০১৬ সালে টাম্পাকো প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লাগলে এ গল্পটি বা অভিব্যক্তি তুলে ধরি। যখন দেখি কোথাও কিছু পরিবর্তন হয় না বড় আফসোস লাগে…

👿
রুবেল নিতান্ত কাকতালীয়ভাবে ঐ পথটা দিয়ে যাচ্ছিলো। মনে ছিল শেষ অফিসের আনন্দ ও বাড়ী ফেরার নানা পরিকল্পনা। বেরসিক দেয়াল কারখানার কি ছাতামাথা বিস্ফোরণে তার গায়ে ধ্বসে পড়বে,সে কি জানতো! রুবেল এও জানতো না,ঐ কারখানার আগুন আরো অনেক মানুষকে জীবন্ত কাবাব বানিয়ে স্বর্গগামী করছিলো বেশ কয়েক ঘন্টা ধরেই।

সম্পূর্ণ এলাকা নানা শিল্পায়নের গর্ব বুকে নিতে নিতে জলাশয়কে ঢেকে দিয়েছে বহুকাল। আগুনের জিহ্বা চলছেই,ফায়ার বিগ্রেড অপ্রতুল পানি সরবরাহের দায় স্বীকার করতে করতে বহ্নিশিখাকে করায়ত্ত করার চেষ্টায় যখন তা থৈ থৈ করছে তখন রুবেলকে বহু কষ্টে স্থানীয়রা “আগুনখেকো” ভাইদের সহায়তায় চাপা পড়া দেয়ালের নীচ থেকে বের করে। আহা রুবেল! সে কখনো ঢাকা মেডিক্যালে যায়নি। আজ গেল। অল্প শ্বাস তখনো চলে।

পকেট হাতড়ে রুবেলের আইডি কার্ড পেয়ে সাথে থাকা মানুষরা ফোন দেয় তার কর্মস্থলে। কর্মস্থলের কলিগরা বাড়ীতে জানাতেই হু হু ছুট গরু মহিষ ছাগল মানুষ এ ঠাসাঠাসি রাস্তা দিয়ে।

রুবেল হয়তো ডাক্তারদের সব চেষ্টা যখন ব্যর্থ হচ্ছিলো তাকে পৃথিবীতে ধরে রাখার তখন চোখ একবার খুলেছিলো। চেয়েছিলো মাকে দেখতে।নিদেনপক্ষে একটা পরিচিত মুখ। সে মুখ,পরিচিত মুখ আসতে আসতে রুবেল পোড়া প্লাস্টিকের মৃত অনেক ভাস্কর্যের সাথে মিলতে একটা দেহ হয়ে যায় অচিরেই।

রুবেল আহমেদ
পিতা: শরীফ আহমেদ
কর্মস্থল : উত্তর সোয়েটার
জরুরী যোগাযোগ : ০১৯……..

আমার রুবেল কই,বাবা তুমি কই গেলা…

আপনি কে?
আমি সোয়েটার ফ্যাক্টরির ম্যানেজার। উনি রুবেলের মা। আমাদের মেডিক্যাল থেকে ফোন করা হয়েছিলো।

প্লাস্টিক কারখানায় মৃতদের প্রতি পরিবারকে নগদ অর্থ সাহায্য দেবে সরকার-নিউজ আপডেট

দেখুন আমাদের রেকর্ডে যে মারা গেছে তার নাম কবির,তার লাশ নিয়ে তো তার পরিবার রওনা হয়েছে।

আমাদেরকে তো ফোন করা হয়েছে,আমি তার ম্যানেজার সব তথ্য দেখুন নিয়ে এসেছি।

বাবা রুবেল তোর শরীরটা মায় একবার ধইরা দেখবার পামু না,ও আল্লাহ তুমি এ কি করলা।

আপনারা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করুন।

হুম আপনার দেয়া সব তথ্য তো আইডি কার্ডের সাথে মিলে যাচ্ছে,আমি মাহবুব,পুলিশের পক্ষ থেকে আজকে ঢাকা মেডিক্যালে ডিউটি আমার।

আমার মনে হয় আপনারা যে এলাকার দুর্ঘটনা সে থানায় যোগাযোগ করুন,আর বডি যেহেতু এক ফ্যামিলি নিয়ে রওনা হয়েছে কিশোরগঞ্জ আমি তাদের ব্যাক করিয়ে সেই থানায় পাঠানোর ব্যবস্থা করি।

প্লাস্টিক কারখানার লোকাল থানার ওসিকে সোয়েটার ফ্যাক্টরির ম্যানেজার সব বলতেই বললেন আপনারা কেস করুন প্লাস্টিক কারখানার এগেনস্টে।
কেন ভাই?
রুবেল রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসছিলো,বিস্ফোরণ হয়ে দেয়াল গায়ে পড়েছে,এটা তো দুর্ঘটনা। ওর পরিবার কেস করবে না,ওরা বডিটা চায়।
বডি আসে,রুবেলের চেহারা চেনা যায়। কিন্তু যারা ঢামেক থেকে পরিবার সেজে বডি নিয়েছিলো তাদের একজন ছাড়া বাকীরা পালিয়েছে।

তোমরা লাশ নিছিলা কেলা?
স্যার দুই লাখ টাকার লোভে।
আমারে ছাইড়া দেন স্যার এমুন আর করবাম না।

রুবেলের পরিবার অবশেষে রুবেলকে পায়। চোখ বোঁজা।

ইয়ে মানে ভাই আপনারা কেস করতে বলেছিলেন কেন সোয়েটার ফ্যাক্টরিকে প্লাস্টিক ফ্যাক্টরির মালিকের এগেইনস্টে?

আরে ভাই বুঝেন না-রুবেলের আসল ফ্যামিলি,সোয়েটার ফ্যাক্টরি,প্লাস্টিক কারখানার মালিক,রুবেলের ভুয়া পরিবার সব মিলায়ে আয়টা কেমন হতো?

আমি তো জানি না ভাই।

লাশ যে এমন দামী ভাই সে জানলে তো ঐ আগুন থেকে দুই একটা আমিও সরায়ে ফেলতাম এসব হিজিবিজি লিখা বাদ দিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *