সেই যে আফগানিস্তানে যুদ্ধের সময় এক সবুজ চোখা নারীর ছবি বিশ্বখ্যাত হলো,সেই ছবি দেখার পর থেকে নাবিলা কেন যেন চোখের মণির অন্য রঙ দেখলেই সে মানুষের দিকে দ্বিতীয়বার ফিরে তাকায়।
নাবিলার গ্রাজুয়েশনের শেষ ধাপ ইন্টার্নশিপ,সেজন্য ও এই সফটওয়্যার কোম্পানিতে এসেছে তিন মাসের শিক্ষানবিশি সমাপ্ত করতে। প্রথম দর্শনেই নাবিলার হৃৎস্পন্দন বন্ধ হবার যোগাড় হয় কটা চোখের সুফিয়ান ভাই কে দেখে।
এই ছুতো সে ছুতোয় নাবিলা সুফিয়ানের কাছে যেতেই থাকে,মাঝে মাঝে সুফিয়ান বেশ বিরক্তি ও প্রকাশ করে।
লম্বা,চওড়া ছাতি,ফর্সা সুফিয়ান শীতের মাঝে যখন গলায় স্টাইলের মাফলার ক্রস দিয়ে পরে,ব্লু কালারের ব্লেজার পরে বাইশের নাবিলার সামনে দাঁড়ায় সেদিন নাবিলার মনে হয়,বত্রিশের সুফিয়ান কে না পেলে ও মরেও যেতে পারে দম বন্ধ হয়ে।
আচ্ছা,রেজা ভাই সুফিয়ান ভাই এখনো ব্যাচেলর কেন? নাবিলার প্রশ্নে রেজা নিজের মেজাজ কষ্টে ঠিক রেখে বলে নাবিলা,আপনি তো ছোটমানুষ,এসেছেন ইন্টার্ন হিসেবে,মানুষের এত ব্যক্তিগত খবর দিয়ে কি করবেন! সুফিয়ান কে জিজ্ঞেস করেন ও কেন বিয়ে করেনি।
নাবিলার এহেন ও অবস্থা দেখে তাসনিম আপা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়,সুফিয়ান ভাইকে সহ একদিন একটা কফিশপে বসে,সাথে খুব ক্যাজুয়ালি নাবিলাকে নিয়ে যায়। কথায় কথায় তাসনিম সুফিয়ান কে বলে,সুফিয়ান ভাই আমার মামাতো বোনকে যে দেখতে যাবেন বললেন খালাম্মা খালু সহ সেটা কবে হবে!
সুফিয়ান উদাস হয়ে তাসনিম কে জবাব দেয়,আপা বলেন আজকে নিজের আব্বু আম্মু থাকলে কি আমাকে এভাবে কনে দেখার ব্যবস্থা করতে হতো!নাবিলার প্রশ্নবোধক চাহনি দেখে তাসনিম ই বলে,আসলে নাবিলা সুফিয়ান ভাই এর আব্বা আম্মা এক রোড এক্সিডেন্টে একসাথে মারা যাওয়ার পর উনার চাচা চাচী ই উনাকে লালন পালনের সব দায়িত্ব নেন। চাচা চাচীর এক ছেলে,আর সুফিয়ান ভাই এই নিয়ে তাদের সুখী সংসার।
সুফিয়ান তাসনিম কে বলে এটা অবশ্য ঠিক আপা,চাচা চাচী আমাকে তাহসানের চাইতে বেশি ভালোবাসে,যেন নিজের বাবা মা’র অভাব না অনুভব করি।
নাবিলা’র দু’চোখে জল টলটল করে সুফিয়ানের এই নতুন তথ্য জেনে। সুফিয়ান তার কটা চোখে পরিষ্কার করে নাবিলার দিকে তাকায় প্রথমবারের মতো। নাবিলা নিজের মুহূর্মুহু ঘেমে যাওয়া হাত,অনেক জোরে শব্দ করা হার্টবিট লুকোতে গায়ের ওড়না অকারণে টানা হ্যাঁচড়া করতে গিয়ে সিনেমার নায়িকাদের মতো তাসনিম আপার কোলে গরম কফি ঢেলে দেয়। কফিটা তো আমার গায়েও পড়তে পারতো! তাহলে সুফিয়ান ভাই আমার উপরে পড়া কফি যত্ন করে মুছতো,যেভাবে এখন তাসনিম আপার জামা থেকে মুছছে!-এসবই ভাবতে থাকে নাবিলা। সে কপাল কি আর আমার হবে! তাসনিম আপা ভেজা জামা নিয়ে নির্বিকার কফিশপ থেকে বের হয়ে সুফিয়ান কে বলে,ভাই আপনি নাবিলাকে নামিয়ে যান বাসায়,আমি এ কাপড়ে আর এখন ওয়েট করতে পারব না।
ছোট স্টারলেট গাড়ি,সুফিয়ান নিজেই চালায়। নাবিলা কি সামনে বসবে না পেছনে,উঠবে কি উঠবে না এই দোলাচলে গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। সম্বিৎ ফিরে পায় সুফিয়ানের ডাকে-নাবিলা,প্লিজ গাড়িতে উঠুন,পেছনে জ্যাম হয়ে যাচ্ছে। নাবিলা তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে তারছিঁড়া বেকুবের মতো মাথায় গাড়ির দরোজার সাথে ঠাস করে একটা বাড়ি খায়।
আপনার বাসা ইন্দিরা রোডের কোন জায়গায়?ভাইয়া আমাকে মাঠের কাছে নামিয়ে দিলেই হবে,ওখানে গাড়ি নিলে আপনার পরে সমস্যা হবে,রোডগুলো চাপা তো! কোন কথা ছাড়া সুফিয়ান এক মনে গাড়ি চালায়,মাঠের কাছে নামাতে নামাতে বলে,বাসায় পৌঁছে ফোন দিয়ে জানাবেন ঠিক পৌঁছালেন কি না।
সুফিয়ান গাড়ি ঘোরায়,ওর তো এই বেলা সাড়ে ছয়টায় বাসায় যাওয়ার কোন কারণ নেই,বাসায় গেলেই যাকে মা ডাকে তার এক ই ঘ্যান ঘ্যান,বিয়ে কর,বিয়ে করলে সব ঠিক হয়ে যাবে। এসব কী ঠিক হবার! তার চাইতে অফিসে কয়েক মাস আগে জয়েন করা রেজার বাসায় আড্ডা দেয়া ভালো হবে। রেজা নিজেদের বাসার একেবারে ছাদে দুইটা রুম নিয়ে বউসহ থাকে,এত্ত সুন্দর দেখতে রেজা ছেলেটা! ওর বউ এ কয়দিন বাপের বাড়ি, কি নিয়ে জানি ঝগড়া সে কারণে। সুফিয়ান এসব ভাবতে ভাবতেই রেজার বাসার গ্যারেজে গাড়ি ঢোকায়। রেজা সুফিয়ান কে দেখে কোন বাক্যব্যয় না করে ফ্রিজ থেকে লুকানো বিয়ারের ক্যান নামায়। সাথে ফ্যাশন শোতে র্যাম্পে হাঁটা ছেলেদের দেখতে টিভিটা অন করে দেয়। দু’জনে কেন সফটওয়্যার কোম্পানিতে কাজ করে তা নিয়ে হাসিতে ভেঙ্গে পড়ে।
সুফির গায়ে হেলান দিয়ে বসে টিভি দেখতে দেখতে রেজা বলে দোস্ত মেয়েটা অল্পবয়স্ক,তুমি এবার বিয়ের মাস্টারপ্ল্যান বানাও,এমনভাবে যেন সাপ ও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে। নিজের সব রক্ষা হলে তারপর অন্যের জন্য মানবিকতা। সুফির কটা চোখ একধরনের শয়তানিতে জ্বলে ওঠে,তখনই স্ক্রিনে নাবিলার মেসেজ-রিচড হোম সেইফলি,থ্যাংকস ফর দ্য লিফট।
সুফিয়ান কাত হয়ে রেজাকে মোবাইলের মেসেজ দেখায়,রেজা সুফিয়ানের সাথে হাই-ফাইভ করে। ‘আসো মামা প্যাঁচ খেলি’ বলেই রেজা সুফির মোবাইল টান দিয়ে লেখে ‘এভাবে যদি অন্যান্য গন্তব্যেও নিরাপদে পৌঁছানো যেত!’
নাবিলা ফোনের স্ক্রিনের দিকে নিবিষ্ট মনে চেয়ে থাকে। অনেক বোঝাপড়ার পর নিজের সাথে তাসনিম কে ফোন দিয়ে পড়ে শোনায় সুফির টেক্সট। ‘আরে মেয়ে এতো পজেটিভ কথা,তোমার সাথে সুফি অন্য সম্পর্কে যেতে চায়’
নাবিলার মনাকাশে অনেক কার্পাস তুলো,যা দেখে তাই ভালো লাগে,ক্ষুধা কমে গেছে। অফিসে যাওয়ার জন্য এক বন্য অস্থিরতা কাজ করে। সুফি প্রায় প্রতিদিন নাবিলাকে নামিয়ে দিয়ে যায় বাসায়।
ছকে পড়া প্রেম যা অপরাপর মানুষের হরমোনের উচ্ছ্বাসে হয়ে থাকে তা নাবিলার উত্তরোত্তর বেড়েই চলে সুফি’র প্রতি। সুফি নিবিষ্টচিত্তে নাবিলাকে সময় দেয়,এই বই সেই বই ঘেঁটে ভালোবাসার কোটেশন পাঠায় এসএমএস করে,ইমেইল করে,অফিসের ল্যানচ্যাটে। এ এক অন্যরকম সময়।
নাবিলার ইন্টার্নশিপ প্রায় শেষের পথে। রেজা সুফি কে বলে নাবিলার বাসায় প্রস্তাব পাঠানোর ব্যবস্থা করতে। তাসনিম খুশিতে দাঁত বের করে ঘুরছে। নাবিলার বিয়ের শপিং ও নিজে গিয়ে করবে এই আনন্দে। অফিসে একটা উৎসব উৎসব ভাব। শুধু সুফি এবং নাবিলার বিয়ের কার্ডটা পেলেই সবাই হাত ধুয়ে খেতে বসে যাবে এমন একটা মনোভাব।
সুফি আজকে নাবিলার হাত থেকে ছাড়া পেয়েছে। ছাড়া পেয়েই একলাফে রেজার বাসায়।-কি রে রেজা তোর বউ ফিরে নাই?না।-মানে কি?আড়াই মাস হতে চললো,তুই এষা কে আনিস নাই এখনো?ও আসবে না। সব জেনে গেছে।
সুফি চোখমুখ শক্ত করে বলে,তোরটা জেনেছে চলে গেছে। আমারটা জানলে কি হবে?
-চলে যাবে। কিন্তু তোর যা পাওয়ার তা পেয়ে যাবি। পাঁচ লাখের বেশি কাবিন করবি না। বেশি গহনাও দিস না। যা না দিলে নয় তা দিবি। দুনিয়ার সবাইকে দাওয়াত দিস না। বরং বিয়েতে বেশি মানুষকে ইনভাইট করে দে,নাবিলাদের প্রোগ্রাম দিয়ে তোর বউভাত কাভার হয়ে যাবে। ভান নিবি,আবার জয়েন্ট প্রোগ্রাম করতে যাস না। মরিশাস ফরিশাসের টিকেট কাটিস না হানিমুন করতে,মেয়ে তোর প্রেমে টইটম্বুর, কক্সবাজার নিয়ে যাওয়াই যথেষ্ট।
জিলাপি টাইপ ষড়যন্ত্র শুনলেই সুফি’র চোখ জ্বলে ওঠে। রেজার ক্ষুরধার বুদ্ধি শুনেই সুফি’র চোখ জ্বলজ্বল করে,মাত্র বানানো স্টিকটাতে সুখটান দিয়ে রেজাকে জড়িয়ে ধরে আবেগে। দোস্ত,এষা কে এত বুদ্ধি নিয়েও ফিরিয়ে আনতে পারলি না?
রেজা মেঘস্বরে বলে তোকে তো জীবন থেকে নেয়া টিপস দিলাম এতক্ষণ।
এক শুভক্ষণে নাবিলার সরকারী চাকুরে বাবা মা তাদের বড় কন্যার বিয়ে দিয়ে দেন ব্যবসায়ী বাবা মা’র ছেলে সুফিয়ানের সাথে। অফিসের মানুষজন বন্ধুবান্ধব মিলে জমজমাট অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানগুলোতে দু চারজন পুরুষ ফ্যাশন ডিজাইনার বন্ধু ছাড়া সুফিয়ানের স্কুল কলেজ বা ইউনিভার্সিটির কোন বন্ধুকে না দেখে নাবিলা সামান্য অবাক হয়। তাহসান,রেজা ও তাসনিম আপার তদারকিতে প্রতিটা প্রোগ্রাম সুন্দর উতরে যায়।
নাবিলার ইন্টার্নশিপ শেষ,এখন নাবিলা কি করবে এ নিয়ে ঠাট্টা মশকরা শুরু হয় হলুদের স্টেজে বসেই,একে অন্যকে চোখ টিপে দুষ্টুমি করে বন্ধুরা ও এখন কি করবে তার ইঙ্গিত দিয়ে।
পর পর চারটা প্রোগ্রামের ধকল মিলিয়ে সুফি ও নাবিলা একান্তে আসার সুযোগ করতেই পারে না। দুজনে সিদ্ধান্তে আসে ওরা হানিমুনে গিয়েই একে অন্যের হবে দেহে। কক্সবাজার ফ্লাইট নামতেই এ যেন অন্য সুফি,হোটেলের রুমে ঢুকে এই যে বিয়ার আর সিগারেট নিয়ে বসেছে কানে হেডফোন গুঁজে দিয়ে অন্য কোন দিকে তার নজর নেই। নাবিলা বেশ কয়েকবার সুফিকে ডেকে ব্যর্থ হয়ে রুম সার্ভিসে খাবার এনে খেয়ে একটু গড়ানোর জন্য বিছানায় নিজেকে এলিয়ে দেয়। কখন যে ঘুম চলে আসে বলতে পারে না। সুফি ঘুমন্ত নাবিলার দিকে এক রাশ বিতৃষ্ণা নিয়ে তাকিয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে সুইমিং পুলের দিকে হাঁটা দেয়। পুলে যেতে যেতে এই হোটেলের পুরানো এটেন্ডেন্স মাহিকে ফোন দেয়,আমি পুলে মাহি আসো।
এ কথা সে কথা,সাঁতার কাটা করে সুফি মাহির রুমে গিয়ে একেবারে রিলাক্স হয়ে বসে। মাহি বলে কি ভাই এবার কাকে নিয়া আসছেন?বউ নিয়া আসছি হানিমুনে। ও ম্যান,আপনে বিয়া করছেন?মাহি হাসিতে ফেটে পড়ে সুফির বডি মাসাজ করতে করতে।
নাবিলাদের কক্সবাজার ট্রিপ একদম বৃথা যায় সুফির অসহযোগীতায়,আজকে ক্লান্ত লাগছে,কালকে মাথা ব্যথা,পরশু ইচ্ছে করছে না অজুহাতে সুফি বিছানায় অন্যপাশে ঘুরে ঘুমিয়ে পড়ে,এদিকে নাবিলা সব জল্পনা কল্পনার এমন করুণ প্রস্থান,নিজের ভেতর সুফিকে পাওয়ার অদম্য আকুলতাকে এভাবে অপমাণিত হতে দেখে নীরব কান্নায় বালিশ ভেজায় প্রতি রাতেই।
অভিনয়ের এক নিপুণ মুখোশ এঁটে নাবিলা সুফি সহ ঢাকায় ফেরে। একে একে চলে দাওয়াত খাওয়া। দিন বিশেক যেতেই সুফির অফিসে খুব ব্যস্ততা এমন কারণে সুফি রাত দশটার আগে বাসায় ঢোকে না। নাবিলা একদিন তাসনিম কে ফোন করে জিজ্ঞেস করে কি এমন কাজ বেড়েছে হঠাৎ করে। তাসনিম চুপ করে থেকে বলে আসলে কি জানতে চাচ্ছিস? নাবিলা বিগত দিনগুলোতে ওর সাথে চলমান আচরণ সুফির তাসনিম কে বলে। বলে ফেলে কোন শারীরিক সম্পর্ক এখনো করতে না পারার হাহাকারের কথা। তাসনিম বলে ওদের ডিভিশনে কি কাজ শুরু হয়েছে খোঁজ নেব,তবে দশটা পর্যন্ত অফিস নেই তোকে এমনি ই বলে দিতে পারি। সারাক্ষণ রেজার সাথে ঘুরে,রেজার বউ চলে গেছে ঝগড়া করে,ঐ যে এষা পিকনিকে দেখেছিলি না। তুই আজকে ভালো করে মাঞ্জা মেরে তোর জামাইকে রাতে ধর বলে তাসনিম ফোন রেখে দেয়।
সারাদিন বাসায় শাশুড়ীর সাথে বসে টিভি দেখা,মাঝে মাঝে রান্না ঘরে যাওয়া,ফোনে কথা বলা ছাড়া নাবিলার কোন কাজ থাকে না। নাবিলার গ্রাজুয়েশসন এর রেজাল্ট হতেই নাবিলা অনলাইনে বিভিন্ন জায়গায় এপ্লাই শুরি করে। সেইরাতে তাসনিম আপার কথা মতো মাঞ্জা মেরে সুফিকে ধরতেই সুফি এক ধাক্বায় নাবিলাকে খাট থেকে ফেলে দেয়। নাবিলা প্রথমে খুব কষ্ট পায়,পরে ওর মনে হয় আহারে এই ছেলেটা হয়তো কোন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে অল্পবয়সে,তাই যে কোনধরনের শারীরিক সম্পর্ক এর সম্ভাবনা তাকে নির্দয় করে তোলে। এমনিতে নাবিলার সাথে কোন দুর্ব্যবহার নেই,শপিং,দাওয়াতে যাওয়া,ঘুরতে যাওয়া,মুভি দেখা কোনকিছুতে আপত্তি নেই,শুধু সুফিকে ছুঁলেই নাবিলা কে বারবার প্রত্যাখ্যাত হতে হচ্ছে।
নাবিলা তার বাবা কে বলতে পারে না ও কেমন আছে,মা কে জানাতে পারে না সুফির এই প্রত্যাখ্যানের কথা। না কোন বন্ধুকে বলা যাগ এ পরাজয়ের কথা। ছেলের কোন খোঁজ না নিয়ে নাবিলা এক প্রকার একশ মিটার স্প্রিন্টের গতিতে নিজের বাবা মা কে ও সুফির বাবা মাকে বিয়েটা দিতে বাধ্য করেছে। এখন নাবিলা মুখে কোন শব্দ আর উচ্চারণ করার উপায় নেই।
একদিন দুপুরে শাশুড়ীর সাথে খেতে গিয়ে নাবিলা প্রসঙ্গক্রমে বলে সুফির আসল বাবা মা দেখতে কেমন ছিলো?তাদের কোন ছবি দেখলো না এখন পর্যন্ত। নাবিলার শাশুড়ী দেলোয়ারা খাবার মুখে হেসে দেন। তোমাকেও এই গল্প বলেছে?আরে বাচ্চাদের কতধরনের গল্প থাকে না,ছোটবেলায় বলা হয় তোকে ডাস্টবিনে কুড়িয়ে পেয়েছি,সুফি তেমন ই এই গল্প বলে মানুষ কে নিজের প্রতি সিম্প্যাথি গ্রো করাতে।নাবিলা স্তব্ধ হয়ে খাওয়া বন্ধ করে দেয়। এই এক ঘটনায় ওর সব প্যাঁচ খেয়ে যায়।
ও তাসনিম কে ফোন করে বলে ওর শাশুড়ী কি বলেছে।
তাসনিম খুব সিরিয়াস মুডে বলে নাবিলা তুই ওর আলমারী টালমারী কোন গোপন ডায়েরি পেপারস থাকলে এবার ঘাঁটা শুরু কর,কোন একটা রহস্য আমরা ধরতে পারছি না। নাবিলা সে রাতে সুফি কিসের চাবি কোথায় রাখে মনোযোগ দিয়ে দেখে।
খুঁজতে খুঁজতে নাবিলা যা পায় তাতে তার ছোট পৃথিবী নড়ে যায়। নাবিলা সুফিকে বলে তুমি আমাকে বিয়ে করলে কেন?সুফি হাসতে হাসতে বলে আমি বিয়ে করেছি?তুমি পাগল হয়ে বিয়ে করেছো। আমি কোথায় পড়েছি,আমার বাবা কি করে এতটুকু পর্যন্ত জানতে চাওনি। নাবিলা বিড়বিড় করে বলে আমি তো তোমার চোখকে বিশ্বাস করেছিলাম,তুমি কেন এমন করলে?নাবিলা ছুটে সুফিকে মারতে যায়,সুফি নাবিলাকে একের পর এক চড় ও লাথি দেয়। তোরে অনেকদিন সহ্য করেছি,কালকেই চলে যাবি বাপের বাসায়। তোকে ডিভোর্স এর চিঠি দেব,বনিবনার সমস্যা এই মর্মে,এক্সেপ্ট করে নিস,আমি তো তোকে টাচ ও করি নাই,তাই চাচ্ছি মিচুয়ালে করবি,কোন টাকা দাবী করবি না।
নাবিলার এত ঘেন্না হয় ও ওর বাবাকে ফোন করে,ওকে এখন ই নিয়ে যেতে। নাবিলার শাশুড়ী এত রাতে বেয়াইকে দেখে অবাক হন,কি ব্যাপার ভাই? মনে হয় ছেলে মেয়ে ঝগড়া করেছে,নিয়ে যাই,মাথা ঠান্ডা হলে দিয়ে যাব,আপনি চিন্তা করবেন না।
নাবিলা বাবার দিকে তাকায়,সেখানে অভয়। গাড়িতে উঠে বসে।
মাথা একটু ঠান্ডা হতে নাবিলা তাসনিম কে ফোন করে দেখা করতে চায়। তাসনিম সহ কফিশপে বসে নাবিলা বলে আপু তুমি আসলে কিছুই জানতে না?আমার এত বড় সর্বনাশ হলো!তাসনিম নাবিলার এগিয়ে দেয়া প্রেসক্রিপশন দেখে,সুফির ইরেকটাল প্রবলেম,চিকিৎসা চলছে সিঙ্গাপুরে। পরের ছবি দেখে ফ্যাশন ডিজাইনার মাহির কে ফ্রেঞ্চ কিস করছে বিয়ারের বোতল হাতে সুফি,মাহিরের এক হাত সুফির পিঠে আরেক হাত সুফির প্যান্টের ভেতর। রেজা এবং সুফি সিক্সটি নাইন পজিশনে। সুফি ফেমাস কনফার্ম গে,শুধু জানে না তাসনিম আর নাবিলা। তাসনিম রাগে গরগর করে,তুই এই হারামজাদাকে ছেড়ে দিবি?আপু আব্বুর বাইপাস করা। বিয়ে করেছি দুইমাস। আব্বু জানলে কি হবে বলেন তো? তাসনিম বলে কিছু হবে না,যত দেরীতে জানবে ততো বেশি সমস্যা। দরকারে আমি বলব। তোর শাশুড়ী জানতো না?ওদের বাসার সবাই ই জানে বলে আমার বিশ্বাস,নইলে এই চাকরী করে তো সিঙ্গাপুরে ট্রিটমেন্ট করানো সম্ভব না। মানুষ এমন ও হয়?তোর মতো ইনোসেন্ট একটা মেয়েকে এভাবে বলি কেন দিলো তারা? গভীর বিষাদে তাসনিমের মাথাটা ভারী লাগতে থাকে। নাবিলা তাসনিম কে রেজার সাথে কথোপকথনের প্রিন্ট আউট দেয় তাসনিম কে। কিভাবে প্ল্যান করে নিজের গে ইমেজ দূর করার জন্য রেজা এষাকে ওর সুফি নাবিলাকে ব্যবহার করেছে তার এক ফিরিস্তি সেই চ্যাটে। এমন কী নিজের বাবা মা কে মেরে ফেলার মতো মিথ্যাও বলে ফেলেছে সুন্দর করে।
নাবিলা বাসায় সব খুলে বলে। ওর বাবা মা একদিনের জন্য ও আর ওকে ঐ বাসায় ফেরত যেতে দিতে রাজী না। নাবিলা খুব করে চাকরী খুঁজছিলো,একটা লিজিং কোম্পানিতে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে জব হয়ে যায়। নাবিলা আবার ও ভুল করে,সহানুভূতির গ্রাউন্ড থেকে ও নিজে ডিভোর্স লেটারটা সার্ভ না করে। এমন প্রতারক ও দৈহিকভাবে অক্ষম ব্যক্তির বিরুদ্ধে কেইস না করে। নাবিলা উকিল নোটিশ পায় যেখানে উল্লেখ করা সে দুশ্চরিত্র ও স্বামী নির্যাতনকারী,নাবিলা স্থানীয় থানা থেকে ফোন পায় তার নামে জিডি আছে এ মর্মে।
নাবিলার হয়ে এবার তাসনিম মাঠে নামে,সাথে রেজার ওয়াইফ এষাকে নিয়ে। সুফিয়ান কে তাসনিম অফিস শেষে রেজাসহ বাইরে দেখা করতে ডাকে। তাসনিম এষার কাছ থেকে পাওয়া আর ও প্রমাণপত্র একসাথে করে। সুফি আসতেই তাসনিক নড়েচড়ে বসে। সুফি,তুমি এ কাজটা কেন করলে?আপা আমাকে তো সমাজের চোখে বাঁচতে হবে।তোমার যেসব প্রমাণ নাবিলার কাছে আছে সেগুলা ফাঁস হলে কি হবে?কিছুই হবে না আপা। নাবিলার যে বিয়ের আগে থেকেই সৌরভের সাথে রিলেশন আমি সেটা ফাঁস করলে নাবিলার কি হবে?বলে সুফি হাসতে থাকে।তাসনিম বলে সৌরভ নাবিলাদের প্রতিবেশী,ওরা একসাথে বেড়ে উঠেছে,সৌরভের সাথে তো নাবিলার প্রেমের সম্পর্ক না সুফি!সুফি সৌরভ এবং নাবিলা একে অন্যের কাঁধে হাত দিয়ে বসুন্ধরাতে যে ছবি তুলেছে সে ছবি দেখায়,দেখায় নাবিলার আই লাভ ইউ ঠু লেখা মেসেজ।তাসনিম বলে সুফি তুমি কি চাও?আপা ডিভোর্স পেপারে সাইন চাই,মুক্তি চাই। নাবিলা দেনমোহর হাফ পাবে।নাবিলা বলে তোমার সাথে আমার বিয়েটাই হয়নি আমার দেনমোহর লাগবে না। তাসনিম নাবিলার কথায় ফুঁসে ওঠে বলে দেনমোহর আলবাত লাগবে,দরকার হলে সে টাকা এতিমখানায় দিয়ে দিবি,টাকা ছাড়বি কেন?নাবিলা চুপ করে থাকে। এষা বলে,ব্যাটা তুই আসলে কার রেজার না মাহিরের?সুফি আবার ও তার বিলাই চোখ জ্বালিয়ে বলে রেজা টাইম পাস,মাহির আমার পার্টনার।রেজার পার্টনার থাকে বিদেশে। ওকে বিয়ে করে নিয়ে যাবে আগামী ছয় মাসের ভেতর।সুফির হাসিতে গা জ্বলতে থাকে তাসনিমের।
নাবিলার বাবা কোন গ্যাঞ্জাম না করে আপোসে সব শেষ করেন। আত্মীয় স্বজন তাসনিম দের অফিসের সবাই জেনে যায় নাবিলার দ্বিচারিতার কথা। সবাই সহানুভূতি জানায় সুফিকে।
নাবিলা চাচাতো ভাই রিয়াজকে বিয়ে করেছে দেড় বছর হয়ে গেলো,রিয়াজের চোখের কালার ব্ল্যাক,নাবিলা বিড়াল চোখের কাওকে এ জীবনে আর বিশ্বাস করেনি। তাসনিম করেনি বিয়ের ঘটকালি।
সুফি বহুদিন পর রিকশায় উঠেছে,রিকশাওয়ালা চোখ ঘুরিয়ে পেছনে তাকাতেই সুফি দেখে রিকশাওয়ালার চোখ বিড়ালের মতো জ্বলছে। সুফি রিকশাওয়ালাকে চোখ টিপ মারে,হাতের মুদ্রাসহ…
Everything is very open with a very clear clarification of the challenges. It was truly informative. Your website is very useful. Thank you for sharing!} {visit link|visit my webpage|visit here|visit|visit my website|visit our website|visit my web site|visit my website|Visit %domain_as_name%|visit my website