<span;>ধরো মানুষটার নাম ম। স্কুলের বারান্দায় কি এক গোপন কথার বিনিময়ে তার সাথে ন এর ভীষণ এক বোঝাপড়া হলো। ন বৃষ্টি এলে নিজের স্কুল ব্যাগ দিয়ে ম কে ঢেকে দেয়। জল কাদা হাত ধরে পার করে। প্রতিটা বিষয়ের সবচেয়ে ভালো নোটপত্তর ম এর জন্য গুছিয়ে রাখে। বেঞ্চে আগেভাগে গিয়ে জায়গা ধরে। ম কে মুখে তুলে খাওয়ায়। ম কোন বন্ধুর বাসায় নেমন্তন্নতে গেলে নিজে গিয়ে নামিয়ে দিয়ে আসে। অথচ জানো তো তারা সমবয়সী ছিল। ন বৃষ্টিতে ভেজে,রোদে শুকায়।
কারণ ম তাকে তার অত্যন্ত ‘গোপন’ একটা কথা বলেছে। ন ভাবে ম এর জীবনে তার কত না জানি গুরুত্ব! সে প্রাণ দিয়ে ঐ লুকানো শব্দের হেফাজত করে। ম এর পথে কাঁটা থাকলে নিজের ঠোঁট দিয়ে তা তুলে নেয়। রক্তাক্ত হয় ন,সারাক্ষণ হাসিমুখে থাকে ম এর সামনে যেন ম আনন্দ পায়।
একটা মানুষ আরেকটা মানুষকে খুশি করতে,নিরাপদে রাখতে,সুস্থতায় ও স্বস্তিতে রাখার জন্য যা যা করা উচিৎ তার চেয়ে হাজারগুণ বেশি করে ন। ও জানে সম্পর্কে ব্রিদিং স্পেস রাখতে হয় তাই কখনো কোন বিষয়ে সওয়াল জবাব করে না। ম এর কিছু কিছু মিথ্যা টের পেলেও তারুণ্যের চাপল্য ভেবে এড়িয়ে যায়।
অনেকে অনেক গুঞ্জনে কান ভারী করলেও ন,ম এর দেয়া বিবরণে আস্থা রাখে,সরাসরি আলাপে শুধরে নিতে চায় ভুল। তারপর একদিন ন জানে ঐ যে ‘গোপন’ কথাটা আরও অনেকেই জানে; ঐ এক ঘটনা বলে ম ভিক্টিম কার্ড খেলে সহানুভূতির এক টিলা বানিয়েছে। ন বুঝে ম এর কাছে ও স্পেশাল কেউ নয়।
<span;>দুই যুগ পরে সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে ন, ম কে দেখে। মনে পড়ে সেই বাক্য ‘তোকে আমার জাস্ট ভালো লাগে না ন’। ন তখনো বলেনি,এখনো বলে না-কোন অভিযোগের আঙ্গুল তোলার স্বভাব ই ন এর নেই। একাই বৃষ্টিতে ভেজে,একাই রোদে পুড়ে-দায়িত্বে কখনো অবহেলা করে না।
<span;>চব্বিশ বছর পরে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিয়ে শুধু চরিত্রের পরিবর্তনে ন ভাবে হায় ‘কন্যারাশি!’ কেন যে এভাবে ক্ষয় করো আয়ু!</span;></span;></span;>